ঢাকা রাত ১:৩০, বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০
শিরোনাম:
মাধবপুরের প্রচার বিমুখ শতবর্ষী মরমি শিল্পী ফকির আসকর আলী মাধবপুরে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য উদ্যোক্তারা পেল কৃষি যন্ত্রপাতি বাপা হবিগঞ্জের উদ্যোগে শায়েস্তাগন্জে পরিবেশ ও বজ্রপাত রক্ষায় তালের চারা রোপন। লাখাইয়ে বন্য প্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের অভিযান। বিজয় নগরে ৪টি গ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা পালিত লাখাইয়ে ফিলিস্তিনীদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত। লাখাইয়ে নানা আয়োজনে শেখ রাসেল দিবস উদযাপিত। লাখাইয়ে শায়েস্তাগঞ্জের বানীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। হৃদয়ের আয়নায় আতাউর রহমান ইমরান মাধবপুরে দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর অনুদান বিতরণ করলেন : প্রতিমন্ত্রী লাখাইয়ে সকল পূজা কমিটির সাথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। লাখাইয়ে মাদকদ্রব্যসহ ২ জন আটক। লাখাইয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড। মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাব পরিদর্শনে গেলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাধবপুরে বজ্রপাতে একই পরিবারের ২ জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুর শিল্পকলার বর্ণাঢ্য আয়োজন মাধবপুরে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে বাপার উদ্যোগে তালের চারা রোপন অভিযান। মাধবপুরে রাখাল বাবুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন মাধবপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময় মাধবপুরে লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্বুদ্ধকরণ বিষযক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে মাদকবিরোধী অভিযান মাধবপুরে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক দেবী চন্দ মাধবপুরে নানা আয়োজনে ১৫ ই আগস্ট পালিত নিখোঁজের ১৫ পরেও মেলেনি কুরআনের হাফেজ মেহেদী কে। জয়পুরহাটে কালাইয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী পালিত মাধবপুরে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা মাধবপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালের পুরস্কার বিতরণ সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ বি-নির্মাণে কাজ করছে : প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ আদেশ দিয়েছেন আদালত মাধবপুরে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

মাধবপুরে প্রাচীন ৩ গম্বুজ দেওগাঁ জামে মসজিদঃ সংরক্ষণ ও গবেষনা করতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় হতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান

চ্যানেল ১০০ ডেস্ক। আপডেটঃ বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৩৫ পিএম 50 বার পড়া হয়েছে

উপজেলা প্রতিনিধিঃ

বিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দেওগাঁ গ্রামে প্রাচীন ঐতিহাসিক এই মসজিদের সোন্দর্য,নির্মাণ-শৈলী এবং স্থাপত্য কলা অবলোকন করতে দিন দিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। এই মসজিদের একটি ফার্সী ফলকে এর সংস্কারকাল মোঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বলে উল্লেখ আছে। তবে এর নির্মাণ এর অনেক আগে বলে ইতিহাস গবেষকদের ধারনা।দিল্লি সালতানাত আমলে এর নির্মানকাল না হয় মোঘল সম্রাট বাবর বা হুমায়ুন এর সময়কালে হতে পারে।মসজিদটির সামনে থাকা একটি প্রাচীন দিঘিসহ একটি পুরানো মাজার রয়েছে যাকে স্থানীয়রা দরবেশ হযরত বদরুদ্দিন শাহ  মাজার বলে উল্লেখ করেন। জঙ্গল-বাশবন ঘেরা উচু উচু টিলা এবং ঘনবৃক্ষের অন্যরকম পরিবেশের কারণে এলাকাটি অত্যন্ত ব্যাতিক্রমী  হওয়াতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।

ঐতিহাসিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পাঠানদের অধীনে থাকাকালীন তাদের দ্বারা মাঝে মধ্যেই  ত্রিপুরায় আক্রমন হতো এই এলাকা তৎকালীন ত্রিপুরার অংশ ছিল। এক যুদ্ধে পাঠান বাহিনীর সেনাপ্রধান কাশিম খাঁ ও দাউদ খাঁ নামক  বিশেষ বীরত্ব প্রদর্শনপূর্বক এ অঞ্চলের বিজয় অর্জন করেন।তারা এখানে বসতির ইচ্ছা প্রকাশ করলে সম্রাট তাদেরকে এখানকার কিছু ভূমি উপহার দেন। এর মধ্যে কাসিম খাঁ দিনাদহ নামক এলাকা প্রাপ্ত হন। দিনাদহ তখন থেকে কাসিম খাঁর নামানুসারে কাশিমনগর হিসেবে নাম হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ এলাকা নিয়ে কাশিমনগর পরগণা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দিনাদহেরই একাংশ ছিল দেওগাঁ। কাশিম খাঁর বসতি স্থাপনের পর থেকে এখানে আস্তে আস্তে মুসলিম জনগন বাড়াতে থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় এই মসজিদ হতে পারে মনে করেন অনেকে। অথবা মসজিদকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এই মুসলিম জনপদ।

প্রাচীন এই  এই মসজিদটি ইট সুরকি নির্মিত ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি দ্বিতল ভবন। এর আয়তন উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ ৩৭ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থ ৩৩ ফুট। ২ ভাগে বিভক্ত ভবনের পশ্চিমাংশ অর্থাৎ মূল ভবন দ্বিতল বিশিষ্ট। প্রস্থ ১৬ ফুট ৬ ইঞ্চি করে ২ অংশের অভ্যন্তর ভাগ ৪ ফুট প্রস্থের দেয়াল দ্বারা বিভক্ত। পশ্চিমাংশের মূল ভবন তিনটি কক্ষে বিভক্ত। তন্মধ্যে মধ্যের কক্ষের অভ্যন্তর ভাগ বর্গাকার ১০ ফুট আয়তন বিশিষ্ট। উভয় পাশের কক্ষ প্রতিটির আয়তন ১০ ফুট x ৮ফুট ৬ ইঞ্চি পরিমান। কক্ষ ৩ টি প্রতিটির সামনে ও পেছনে একটি করে দরজা রয়েছে।

এই মসজিদের খাদেম আফজাল চৌধুরী জানায়,এ মসজিদের অভ্যন্তরে একটি  ফলক রয়েছে যেখানে ফারসি ভাষায় লিখিত আছে এই মসজিদ আকবরের আমলে সংস্কার করা হয়েছে। এর নির্মাণ অনেক আগে। দিল্লি সালতানাতের আমলেও হতে পারে। মসজিদের নিচতলায় অনেকগুলো বসতি রুম রয়েছে। যেগুলোয় মুসাফির সাধু-সন্ন্যাসীরা থাকতো বলে মনে হয়।নৃত্তাত্ত্বিক গবেষণা পরিচালনা করলে আরো অনেক কিছু বেরিয়ে আসতো।
সমাজসেবক ও টিভি সাংবাদিক জনাব আজিজুর রহমান জয় বলেনঃ আমরা মাধবপুরবাসী দুর্ভাগা কারন এমন একটা প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষনে আমরা উদাসীন।আমি দ্রুত এর উন্নয়নে সরকারের কাছে দাবী জানাই।

বহরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলাউদ্দীন জানান,প্রাচীন এই জামে মসজিদ আমাদের ইউনিয়ন তথা উপজেলার গর্ব। দিন দিন এর দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এটি সংস্কার, গবেষনা,প্রচারের জন্য বিভিন্ন ফোরামে কথা বলে যাচ্ছি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান বলেন,এটি  প্রাচীন স্থাপনা হতে পারে তবে এর মধ্যে অনেক সংস্করণ,পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে বলে মনে হয়।এলাকাবাসীর পক্ষে এটি সংরক্ষন ও গবেষণা করতে মহাপরিচালকের নিকট একটি আবেদন দেয়া হয়েছে।আমরা  নির্দেশনা পাওয়া মাত্র জায়গাটি পরিদর্শন করতে যাব।সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে এটি সংরক্ষণের আওতায় আসতে পারে।

 

এ দিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচার ও সাংবাদিক মুজাহিদ মসির লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সাধারণ শাখা-১ হতে বিশেষ একটি স্মারকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার অনুপমা দাস বিষয়টি যাচাই পূর্বক গবেষণা ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।


মন্তব্য

আপলোডকারীর তথ্য

Channel 100 Admin

আপলোডকারীর সব সংবাদ